আইনের টুকিটাকি: আপনিও গ্রেপ্তার করতে পারেন,তবে কখন? জেনে নিন !!

arrest.jpg

আমিনুল,স্টাফ রিপোর্টার :

চোখের সামনেই চিলের মতো ছোঁ মেরে হাতের মুঠোফোন কিংবা ব্যাগ নিয়ে হাসতে হাসতে পালিয়ে যায় মোটরবাইক আরোহী ছিনতাইকারী। আর তা দেখে আমরা সবাই—‘উটপাখি’—মুখ লুকাই নিরাপদ খোপে। উল্টো ভাবি, চোর-ডাকাত ধরা বা গ্রেপ্তার—এসব তো পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ। আমরা খামোখা এ ঝামেলায় যাব কেন? খামোখা আইনকে নিজের হাতে তুলতে যাব কোন দুঃখে।

আমাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, অপরাধীকে আমি-আপনিও চাইলে গ্রেপ্তার করতে পারি। আইনের একটা নীতি হলো, কোনো অপরাধীই শাস্তি না পেয়ে যেতে পারবে না। শাস্তি তাকে পেতেই হবে। কিন্তু তার জন্য তো আগে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা চাই। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো চাই। যে কাজটি আবার প্রচণ্ড দুরূহ। কারণ অপরাধী মাত্রই পালিয়ে বাঁচতে চায়। ধরা দিতে চায় না। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। তাই অপরাধী ধরার কাজটা যাতে সহজ হয়, এ জন্য আইন পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের মতো সাধারণ জনগণকেও উপহার দিয়েছে গ্রেপ্তারি ক্ষমতা [ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯(১) ধারা]।

তবে সে ক্ষমতা শুধু দুই ধরনের অপরাধীর ওপর প্রয়োগ করা যাবে। ওই দুজনের একজন হলো ঘোষিত অপরাধী, যার বিরুদ্ধে আদালত হুলিয়া জারি করেছে, যাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ গোটা দেশ চষে ফেলছে কিংবা যে কি না পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বা দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দ্বিতীয় জন হলো, কোনো আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারী।

খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ছিনতাই, চুরি, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ইত্যাদি যেসব গুরুতর অপরাধের অভিযোগে পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে, আইনের ভাষায় সেসব হলো আমলযোগ্য অপরাধ (কগনাইজেবল অফেন্স)। অন্যদিকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হলো খুন, বোমা হামলা, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি ধাঁচের গুরুতর অপরাধ, যেখানে অপরাধীকে আদালত জামিন না দেওয়ার অধিকার রাখেন। কোনো ব্যক্তি যে অপরাধে অভিযুক্ত, তা কেবল আমলযোগ্য অথচ জামিন অযোগ্য নয়; কিংবা জামিন অযোগ্য অথচ আমলযোগ্য নয়; তাহলে কিন্তু আপনি তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন না। যাকে গ্রেপ্তার করবেন তার কৃত অপরাধ একই সঙ্গে আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য—দুটোই হতে হবে। শুধু তা-ই নয়, আপনাকে হতে হবে অপরাধটির একজন প্রত্যক্ষদর্শী। কারও কাছ থেকে শুনে বা গুজবে কান পেতে বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে একজন মানুষকে আপনি গ্রেপ্তার করতে পারেন না। অবশ্য যিনি দেখেছেন তাঁকে গ্রেপ্তারে সাহায্য করতে পারেন। পারেন ক্ষতিগ্রস্তের আর্তচিৎকার শুনে বা ক্ষতিগ্রস্তের বর্ণনা শুনে অপরাধীকে আটক করতে।
উল্লেখ্য, কোন কোন অপরাধ আমলযোগ্য, কোন কোন অপরাধ জামিন অযোগ্য—সে বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে বিস্তারিত বলা আছে।

যাক, অপরাধীকে গ্রেপ্তার তো করলেন। তারপর কী করবেন?

হ্যাঁ, তারপর কাজ হলো তাকে আশপাশের কর্তব্যরত কোনো পুলিশ অফিসারের কাছে সোপর্দ করা। পুলিশ অফিসার না পেলে তাকে কাছের থানা হেফাজতে রেখে আসা। এ কাজটি আপনি নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও করাতে পারেন।
লক্ষণীয়, এ গ্রেপ্তারি ক্ষমতা প্রয়োগে তিনটি সতর্কতা আপনাকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। সেগুলো হলো গ্রেপ্তারের পর অপরাধীকে—
১. পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে কোনো প্রকার অনাবশ্যক বিলম্ব করা যাবে না।
২. মারধর কিংবা অন্য প্রকার শারীরিক বা মানসিক আঘাত করা থেকে বিরত থাকা। এ ক্ষেত্রে গণপিটুনি কিন্তু সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ।
৩. গ্রেপ্তার করা ব্যক্তি যেন কোনোভাবেই পালাতে না পারে।
অপরাধীকে দেখলেই যে গ্রেপ্তার করতে হবে, তা কিন্তু নয়। কারণ, তা করতে আইনত আপনি বাধ্য নন। তবে গ্রেপ্তার করলে উপরিউক্ত সতর্কতা পালনে কিন্তু বাধ্য। অন্যথা গ্রেপ্তার করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হবেন নিজেই।

(সংগৃহীত)

Top