যশোরে ৮৮ ভাগ বোর ক্ষেতে পরিবেশবান্ধন পার্চিং পদ্ধতি

29745336_556731511356288_1394057073_n.jpg

 আব্দুর রহিম রানা, যশোর : 

বোর ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করতে কীটনাশকের পরিবর্তে ‘পার্চিং পদ্ধতি’ ব্যবহার করছেন যশোরের কৃষক। ক্ষেতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি পুতে সেখানে পাখি আনছে। সেই পাখি পোকামাকড় ধরে খাচ্ছে।

জেলার ৮৮ ভাগ বোর ক্ষেতে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন চাষিরা। কৃষিবিদরা বলছেন, পার্চিং পদ্ধতিতে পরিবেশ বান্ধবভাবে পোকা দমন হচ্ছে। বাড়তি খরচ না থাকায় বোরো আবাদে এবার কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে। এই পদ্ধতিতে ধানের ক্ষেতে পাখি বসার জন্য গাছের ডাল, বাঁশের আগা, কঞ্চি পুতে দেয়া হয়। গাছের ডাল, বাঁশ, কঞ্চির মাথায় বসে পাখিরা ক্ষেতের পোকামাকড় ধরে খায়।

কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই বোরো ধানের ক্ষতিকর মাজরা পোকা দমনের জন্য সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়ন শতভাগ এ পদ্ধতির আওতায় এসেছে। এ ইউনিয়নের হরিনার বিলে সরেজমিনে দেখা যায়, দিগন্ত বিস্তৃত ধানের সবুজ মাঠ। সেখানকার ধান ক্ষেতে নির্দিষ্ট দূরত্বে গাছের ডাল, বাঁশ, কঞ্চি পুতে রেখেছেন কৃষক। ফিঙে, শালিকসহ রঙ-বেরঙের বিভিন্ন পাখি ডালে, কঞ্চির আগায় বসছে। সেখান থেকে ক্ষেতে নেমে পোকা মাকড় ধরে খেয়ে ফেলছে।

কালাবাগান এলাকায় রূপদিয়া মোড়ের পাকা রাস্তার পাশে মঙ্গলবার ধানের ক্ষেতে গাছের ডাল পুতছিলেন কৃষক আতাউর রহমান। তিনি জানান, দেড় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। কীটনাশক ব্যবহার না করে পার্চিং পদ্ধতিতে মাজরা পোকা দমন করছেন। আশপাশের জমি দেখিয়ে তিনি বলেন, অনেকের দেখাদেখি তিনিও আগ্রহী হয়েছেন। নিরঞ্জন সরকার নামে কালাবাগান এলাকার আরেক কৃষক জানান, তিন বিঘা জমিতে তিনি বোরো চাষ করছেন। এসব জমিতে তিনি ২৪ টি গাছের ডাল ও ১০ টি কঞ্চি পুতে দিয়েছেন। এসব গাছের, ডাল, কঞ্চিতে বসে পাখিরা এসে বসে পোকামাকড় ধরে খেয়ে ফেলছে। তার মতন আরো অনেকে এভাবে পোকা দমন করছেন।

চাঁচড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, চাঁচড়া ইউনিয়নের শতভাগ বোরো ক্ষেতে পার্চিং করেছেন কৃষক। পরিবেশ বান্ধব এ পদ্ধতির ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন তারা। তিনি বলেন, এক বিঘা আয়তনের ধান ক্ষেতে ১০ থেকে ১৫ টি করে ডাল পোতা হয়। কেউ গাছের ডাল, কেউ বাঁশের আগা নয়তো কঞ্চি পুতেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রতি বছর যশোর জেলায় বোরো আবাদের পরিমাণ বাড়ছে। গত বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে যশোরের ১ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এসব আবাদি জমির মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে পার্চিং করা হয়েছে। যা মোট আবাদের ৮৮ শতাংশ। এখনও অনেকে ক্ষেতে পার্চিং করছেন। এ হিসেবে ৯৫ শতাংশ জমিতে পার্চিং হবে বলে কৃষি বিভাগ ধারণা করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান জানান, পার্চিং পদ্ধতিতে কোন প্রকার ওষুধ ছাড়াই ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা যায়। মাজরা পোকা দমনে পরিবেশ বান্ধব পার্চিং পদ্ধতিটি খুব কার্যকর। ক্ষেতে ডাল, কঞ্চি পুতে দিলে সেখানে ফিঙে, শালিকসহ রঙিন সব পখিরা বসে ধানের চারা থেকে মাজরা পোকা, পোকার মথ, ডিম খেয়ে ফেলে। কীটনাশক খরচ না থাকায় কৃষকের উৎপাদন খরচ কম হয়। ফলে লাভবান হন কৃষক।

Top