জগন্নাথপুরে এলাকাবাসীর দাবী থাকার পরও নলুয়ার হাওর বাচাতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধঁ আজও হয়নি

29340986_1916174881746583_2009628219_n.jpg

 জগন্নাথপুর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর করাল গ্রাস থেকে নলুয়ার হাওরকে বাঁচাতে বার বার ইউপি চেয়ারম্যান,উপজেলা চেয়ারম্যান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাবী করার পরও আজ পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওর অধ্যুশিত জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহত্তর নলুয়ার হাওরে এ বছর বেড়ী বাধঁ নির্মাণ কাজ প্রকল্পের আওতাভূক্ত রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা বাগময়না গ্রাম সংলগ্ন আধা কিঃমিঃ বাধঁ নির্মাণ না হওয়ায় এ বছরও হাওরটি অরক্ষিত থাকার সম্ভনা দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক নলুয়ার হাওর রক্ষা বেড়ী বাধঁ নির্মাণ কাজ প্রকল্পের সার্বে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উপরোক্ত স্থানে বাধঁ নির্মাণে প্রয়োজনীয়তা মনে করেনি।কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় নদী ভাঙ্গন কবলিত বাগময়না গ্রামের প্রায় অর্ধ কিঃমিঃ বেড়ী বাধঁ নির্মাণ কাজ হয়নি। এতে এলাকার কৃষক সম্প্রদায় সহ সচেতন জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ন এ বাধঁটি নির্মাণ না হলে গত বছরের ন্যায় এ বছর ও কুশিয়ারা নদীর পানি নলুয়ার হাওরে প্রবেশ করে কৃষকের বোরো ধান তলিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য,সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি হাওর রক্ষা বাধঁ অরিক্ষত থাকার ফলে গত বছর চৈত্র মাসে অকাল বন্যায় কৃষকের পাকা বোরো ধান তলিয়ে যায়।বর্তমান সরকার কৃষকের ফসল রক্ষার স্বার্থে ২০১৭-২০১৮ সালে বেড়ী বাধঁ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নজরে থাকলেও রহস্যজনক কারনে বাগময়নার নদী ভাঙ্গনের উক্ত সড়কটি প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হয়নি।

বাধঁটি নির্মাণ না হওয়ায় বাগময়না গ্রামের কৃষক আমির উদ্দিন ছোট ক্ষোভের সাথে বলেন, জেলা ব্যাপী বেড়ী বাধঁ নির্মাণ কাজ হলে ও আমাদের এলাকার সামান্য এ বাধঁটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে পড়েনি। আমাদের ফসল হানি হলে এই দ্বায়ভার পানি উন্নয়ন বোর্ডকেই বহন করতে হবে। আলীনগর গ্রামের কৃষক সুজাত আলী বলেন, গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে আমাদের এলাকার কৃষকরা একমুষ্ঠি বোরো ধান ঘরে তুলতে পারেনি,এ বছরও বেড়ী বাধঁ নির্মাণে স্বেচ্ছাসারিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।আমাদের নদী ভাঙ্গন কবলিত বাধঁটি নির্মাণ না হলে নলুয়া হাওরের কৃষকের ফসল হুমকির সম্মুখিন থাকবে।

এ ব্যাপারে রানীগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী এখলাছুর রহমান আখলই বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বাধঁটি নির্মাণের আওতাভুক্ত করতে কৃষকের পক্ষ থেকে অনুরোধ করি। বাধঁ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পের আওতাভুক্ত করতে অপরগতা প্রকাশ করে।

বর্তমানে এলাকার ফসল রক্ষার স্বার্থে বাধঁ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে জগন্নাথপুর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (৩) আসনের এমপি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম,এ মান্নানের কাছে লিখিত একটি আবেদন করার উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের বাধঁটি যথাসময়ে নির্মাণের আওতাভুক্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

এ ব্যাপারে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা জানান, আমরা এ স্থানে কাজ করানো জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করেছি। কোন ধরনের বরাদ্ধ পাই নাই। আমাদের ইউনিয়ন অফিসের বরাদ্ধ থেকে ৩-৪ লক্ষ টাকা দিয়ে ফসল রক্ষা বাধঁ নির্মাণ করবো। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Top