দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দারিদ্রতাকে জয় করে চলছে মেধাবী ছাত্র আসিকের পড়ালেখা

received_355901891594949.jpeg

 

দয়াল ডিসি রায়, দিনাজপুর থেকে—

দারিদ্রের কাছে মাথা নত নয়, ববং দারিদ্রকে জয় করে এগিয়ে যেতে হবে। সমাজে সবাইতো বিত্তবান হয় না। তাই বলে বসে থাকলে চলবেনা। দারিদ্র জয়ে শিক্ষার পাশাপাশি সততার সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে লজ্জার কিছু নেই। ফুটপাতে তরমুজ বিক্রয়কালে এমনটি জানালেন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ নিয়ে পাশ করা দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মেধাবী মুখ মোঃ আসিক ইসলাম।
অভারের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি পৌর শহরের তাজমহল সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতে বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। তবে সেই সিমানে হলটি বন্ধ থাকলেও বন্ধ থাকেনি মোঃ আসিক ইসলাম দারিদ্র জয়ের স্বপ্ন দেখা। অদম্য ইচ্ছা শক্তিই প্রেরণা যুগিয়েছে তার দারিদ্র জয়ের।
সব বাধা পেরিয়ে বীরগঞ্জ কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ নিয়ে পাশ করেছে। একই বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৪ দশমিক ২৮ পেয়ে পাশ করেছেন।বীরগঞ্জ মডেল প্রাথমিক সরকারী বিদ্যালয় হতে প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৪ দশমিক ২৫ পয়েন্ট পেয়ে।
বীরগঞ্জ পৌরশহরের খালপাড়া এলাকার মোঃ হাসেম আলীর ছেলে মোঃ আসিক ইসলাম। বাবা একজন মৌসুমী ব্যবসায়ী। মা মোছাঃ আফিনা বেগম একজন আদর্শ গৃহিনী। পৌর শহরের তাজমহল সিনেমা হল মোড়ে শীতকালে ফুটপাতে ডিম বিক্রয় করে এবং অন্যান্য সময় মৌসুমী ফল বিক্রয় করে তাদের সংসার চলে। সম্পদ বলতে বসত ভিটার ৩শতক জমি। পরিবারের ৩ ভাই ও ১বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় সে।
মোঃ আসিক ইসলাম জানান, অর্থনৈতিক অভাবের কারণে প্রাইভেট পড়তে না পারলেও শিক্ষকদের সহযোগিতার অভাব ছিল না। মায়ের পাশাপাশি বাবার উৎসাহে তার এই সফলতা। লেখাপড়া ফাঁকে অবসর সময়ে বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। স্কুল বন্ধ থাকলে দিনভর ফুটপাতে বাবার দোকানে বসতাম। এতে লজ্জ্বার কিছু নেই। পরিশ্রম করে দারিদ্রের সাথে লড়াই করাতে লজ্জ্বা কিসের। ভিক্ষা কিংবা কোন অপরাধ তো করছি না। ভবিষতে সে বিসিএস ক্যাডারের একজন বড় প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চায়।
মোঃ আসিক ইসলামের বাবা মোঃ হাসেম আলী জানান, ইচ্ছে তো অনেক। তবে ফুটপাতে বসে অর্জিত অর্থে ছেলেকে কতদুর পড়াতে পারবো জানিনা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মুল্যের উর্ধগতিতে আমাদের মতো গরিবের সংসার চালানো কঠিন পড়েছে। এখন নতুন করে একটি চিন্তা যোগ হয়েছে ছেলেকে নিয়ে। কোথায় ভর্তি করাবো। তার ভর্তির এবং পড়াশুনার টাকা আসবে কোথা থেকে। পড়াশুনার পাশাপাশি দোকানে বসতো সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এখনো জানি না তার পড়াশুনা চলবে। নাকি বন্ধ করে দিতে হবে। এ ব্যাপারে পরিবার পক্ষ থেকে সমাজের সকলের সহযোগিতা এবং দোয়া কামনা করছেন তিনি।
কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, মোঃ আসিক ইসলাম খুব মেধাবী ছাত্র। সে কিছুটা লাজুক স্বভাবের এবং নিয়মিত ক্লাশ করতো। তার বাবা ফুটপাতে ব্যবসা করেন। এ কারণে অর্থাভাব থাকলেও লেখাপড়ার ক্ষেত্রে পরিবারের চেষ্টার কমতি ছিল না। আমরাও তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আগামী দিনে সে দেশ ও আমাদের সমাজের মুখ উজ্জ্বল করবে। পাশাপাশি তার দারিদ্র জয়ের চেষ্টা সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Top