জগন্নাথপুর উপজেলার দ্বিতীয় মেয়াদে বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন: কৃষক জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি

29341577_1914923968538341_1521301906_n.jpg

 জুয়েল আহমদ,জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাওর রক্ষা বেড়ি বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন পোল্ডার নং (১) এর আওতা ভুক্ত নলুয়ার হাওরে বেড়ি বাঁধ দ্বিতীয় মেয়াদে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় এলাকার কৃষক জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৭-২০১৮ ইংরেজী সনের হাওর রক্ষা বেড়ি বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার মেয়াদ গত ২৮ ফেব্রুয়ারী শেষ হয়। সময় শেষ হওয়ার পর সময় বর্ধিত করে আবার সময় দেওয়া হয়। নলুয়ার হাওর বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের চেয়ারম্যান মো. সুলতান আহমদ পিআইসি নং ৯৪ বর্ধিত দ্বিতীয় মেয়াদে বেড়ি বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। সময়মত কাজ শেষ করায় এলাকার কৃষকের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নানা প্রতিবন্ধকতার কারনে পিআইসি কমিটি নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় উপজেলা প্রশাসন গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বিতীয় বার কাজের মেয়াদ বর্ধিত করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে অনেক পিআইসি কমিটি কাজ শেষ করতে না পারলেও এই পিআইসি সভাপতি প্রকল্প সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ফলে এসব এলাকায় ফসল রক্ষায় আর কোন শঙ্কা নেই বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, উপজেলার অন্য বাঁধের তুলনায় এ বাধেঁ কাজ ভাল হয়েছে। নলজুর নদীর পাশের একটি বেরীবাঁধে কাজ শেষ হওয়ায় কৃষকেরা পিআইসির কমিটির সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান। এভাবে সকল বাধেঁর কাজের জন্য দাবি জানান কৃষকেরা। এখানে বাঁধের নিকট থেকে মাটি উত্তোলন করা হয় নাই, বিধায় কাজটি মজবুধ হয়েছে। কৃষক বাচঁলে দেশ বাচঁবে এ কথাটি উপজেলার সকল বেরীবাধেঁর সভাপতি ও সেক্রেটারীর মনে রাখা প্রয়োজন। কেননা গত বছর জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ হাওর নলুয়া ও মইয়াসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরে হাওর রক্ষা বেরীবাঁধ নির্মানে নি¤œমানের বেরী বাঁধ ভেঙে জগন্নাথপুরের সবক’টি হাওরের আধাপাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে নানা কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে আমাদের। এবার বোরো ফসল চাষাবাদের শুরুতেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়ি।হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় শুরু থেকে বোরো আবাদ ব্যাহত হতে থাকে। এর সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপরও আমরা থেমে নেই। জীবন-জীবিকার তাগিদে বুক ভরা আশা নিয়ে আমরা নেমেছি চাষাবাদে।

প্রকল্পের চেয়ারম্যান মো.সুলতান আহমদ জানান, নদীর নিকটে বাধঁ থাকায় বাঁধের কাজ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম, বাধঁটি খুবই ঝুকিপূর্ন ছিল সময় মত কাজ শেষ করে এখন মুক্ত হয়েছি। যে কোন সময় বৃষ্টিপাত হতে পারে,বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে কাজটি শেষ হওয়ায় ভাগ্যবান মনে করছি। বৃষ্টি হলেই মাটির সংকটে পড়তে হত আমাকে। সকলে সহযোগীতায় কাজ শেষ হওয়ায় সকল কৃষক সহ স্থানীয় প্রশাসনের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।

Top