রাজনৈতিক উত্থান ঠেকাতে কতিপয় মহলের দায়ের করা সাজানো মামলা থেকে মুক্তি চাই-আহসান উল্লাহ

Chakaria-Pictuer-21-03-2018.jpg

সাঈদী আকবর ফয়সাল
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাণি¦ত হয়ে দলের ভেতর ঘাঁপটি মেরে থাকা প্রতিপক্ষরাই ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় এক মাস ৬দিন জেল খাটানোর অভিযোগ করেছেন লামা উপজেলার ফাঁইতং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ এইচ এম আহসান উল্লাহ। চকরিয়া উপজেলা সদরে সংবাদ সম্মেলনে শেখ এইচ এম আহসান উল্লাহ অভিযোগ করেছেন, সমাজসেবায় মানুষের মন জয়ের পাশাপাশি বিগত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাওয়ায় আমি ষড়যন্ত্র ও হয়রানীর শিকার হচ্ছি। সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক উত্থান ঠেকাতে গিয়ে আমাকে ইয়াবা পাচার ঘটনায় জড়িয়ে মিথ্যা মামলায় আসামী করেছে ইর্ষান্বিত একটি মহল। ওই মহলটি আমার বড় ভাইয়ের তালকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বাদী করে দায়ের করা একটি মামলায়ও আমাকে জড়ানো হয়েছে। ওই মহলটি যেকোন উপায়ে আমাকে এলাকা ছাড়া করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। গতকাল সোমবার বিকালে চকরিয়া পৌরশহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীলীগ নেতা আহসান এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এহসান নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।দলের ভেতর কারা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করে দলের স্থানীয় নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করেন। বলেন, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকায় আমি প্রতিদ্বন্ধিতা করার জন্য চুড়ান্ত প্রস্তুতিও নিই। শেষপর্যন্ত বান্দরবানের অভিভাবক ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বীর বাহাদুরের নির্দেশে সেই নির্বাচন থেকে সরে যাই। এ কারণেই আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবী করেন, আইনী প্রক্রিয়ায় আমার ভাইয়ের সাথে তাঁর স্ত্রী শেফায়েতুন নেছার ডিভোর্স কার্যকর হলেও ফাইতং ইউনিয়নের কতিপয় মহল তাকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছে আমার পরিবার ও আমার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ তাঁরা ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে দিয়ে ইয়াবা নাটক তৈরী করে আমাকে ফাঁসাতে পুলিশে খবর দেয়। ওইদিন বিকালে চকরিয়া থানা পুলিশ আমাকে ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করে। পরদিন আমাকে তিনশত পিস্ ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত মামলার আসামি হিসেবে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত আমাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
তিনি বলেন, আইনী প্রক্রিয়ায় আমি গত ১২ মার্চ কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিনের মাধ্যমে কারামুক্ত হই। আইনের রক্ষক ও এলাকাবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন কী অপরাধে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সম্মান ক্ষুন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হলে আসল সত্য ও কুচক্রী মহলের চক্রান্ত উম্মোচিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ওইসময় উপস্থিত ছিলেন ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মাষ্টার রুহুল আমিন, মাষ্টার ছরওয়ার আলম, মো. রবিউল ইসলাম, আফজাল হোসেন জয়, ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ছরওয়ার আলম, সাদ্দাম হোসেন শাহিন ও জাহেদুল ইসলাম প্রমূখ।##

Top